তাপস চন্দ্র সরকার।।
২০২১ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে কুমিল্লায় আয়োজন করা হয়েছে ‘একুশে শারদ’।
নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে প্রদীপ প্রজ্বালন ও শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের এ আয়োজন করেছে ত্রিশূল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা নগরীর নানুয়াদিঘীর পাড়ে এ স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ সনাতনী সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২১ সালের শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা সনাতনী সম্প্রদায়সহ দেশের মানুষের মধ্যে গভীর বেদনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
সেই বেদনাবিধুর অধ্যায়ে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত ‘একুশে শারদ’ কেবল আনুষ্ঠানিক স্মরণ নয়; বরং এটি হারানো প্রাণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস।
আয়োজকদের আহ্বানে প্রদীপ প্রোজ্বলনের মাধ্যমে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি প্রদীপ যেন সহিংসতায় হারিয়ে যাওয়া প্রাণের স্মৃতি ধারণ করে এবং ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রত্যয় প্রকাশ করে।
বাংলাদেশের বহুধর্মীয় সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সহিংসতা সমাজের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা, ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সনাতনী সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তাঁদের প্রত্যাশা, ‘একুশে শারদ’ শোককে স্মরণে ধারণ করে বিভেদের পরিবর্তে সম্প্রীতি, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে মানবিকতার চর্চাকে আরও জোরালো করবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহতদের স্মৃতি ধারণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ই হয়ে উঠবে এ স্মরণানুষ্ঠানের মূল বার্তা।