শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪১তম জন্মদিন পালিত, কুমিল্লার গুণীজন ও ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরার আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‎ভাষা আন্দোলনের অগ্রদূত, রাজনীতিবিদ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪১তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কুমিল্লায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বৃহত্তর কুমিল্লার গুণীজন ও ঐতিহ্য বাংলাদেশসহ বিশ্বদরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

‎সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুমিল্লার কান্দিরপাড়স্থ দেশপ্রিয় কনভেনশন হলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‎আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ তাঁকে তাঁর ছোট ছেলে দিলীপ দত্তসহ কুমিল্লার ধর্মসাগর পশ্চিমপাড়ের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ মার্চ অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁদের হত্যা করা হয়।

‎শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ মো. সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ ও কুমিল্লার প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসনাত বাবুল, সোনাক-এর সভাপতি অধ্যক্ষ নিখিল চন্দ্র রায়, যাত্রীর সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুক সরকার, রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সজ্জাদুল কবির, উদীচীর সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ, আমার শহর সম্পাদক গাজীউল সোহাগসহ পরিষদের নেতারা।

‎অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁর ১৪১তম জন্মদিন উপলক্ষে জুনায়েদ রায়হানের সম্পাদনায় দুর্বার বাংলা থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। এতে তাঁর অবহেলিত বাসভবনের চিত্র তুলে ধরা হয়।

‎আলোচনা সভায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে কুমিল্লার গুণীজন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এ ছাড়া কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ও অন্যান্য গুণীজনকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে স্মরণসভার আয়োজন করতে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও সভায় জানানো হয়।

‎বক্তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ধর্মসাগর পশ্চিমপাড়ের অবহেলিত বাসভবন সংস্কার করে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ এবং তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথাযথ সম্মান জানানোর দাবি জানান। এ লক্ষ্যে তাঁর নামে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের একটি সড়কে নতুনভাবে স্মৃতিচিহ্ন ও পথনির্দেশিকা স্থাপন, কুমিল্লায় ভাষা জাদুঘর ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি স্কুল-কলেজের লাইব্রেরিতে তাঁর নামে স্মৃতি কর্নার স্থাপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানানো হয়।

‎সভাপতির বক্তব্যে ড. শাহ মো. সেলিম শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ কুমিল্লার সব গুণীজন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংস্কার করে আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁদের ইতিহাস তুলে ধরতে কুমিল্লার সচেতন বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

‎আলোচনা পর্ব শেষে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশিত হয়।