জরাজীর্ণ অবকাঠামোতেও এইচএসসি ফলাফলে দেবীদ্বারে চমক দেখালো আদর্শ টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজ

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ভোষনা গ্রামে অবস্থিত আদর্শ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এইচএসসি ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ফলাফলে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে।

দেবীদ্বার মূল উপজেলা থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে, চান্দিনা রোডে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি চরম অবকাঠামোগত সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব ও ল্যাবরেটরিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এবারের ফলাফলে উপজেলার মধ্যে শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থান জায়গা করে নিয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি (বি.এম.টি) পরীক্ষায় এই কলেজ থেকে মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৩৬ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১৬ জন অকৃতকার্য হয়েছে। সার্বিকভাবে এ বছর কলেজটির পাসের হার প্রায় ৭০ শতাংশ।

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটি ধারাবাহিকভাবে চমৎকার ফলাফল করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২০২১ সালে ১০০%, ২০২২ সালে ৯৯%, ২০২৩ সালে ৯৯%, ২০২৪ সালে ৯৮% পাশের হার ছিল। এই ধারাবাহিক ঈর্ষণীয় সাফল্যের মাধ্যমে কলেজটি জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

তবে অভাবনীয় এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম হতাশা ও বঞ্চনার চিত্র। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও কলেজটির অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভবন চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও এমন ঈর্ষণীয় ফলাফলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের প্রত্যাশা, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই জরাজীর্ণ কলেজটির দিকে সুদৃষ্টি দেবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ভোষনা গ্রামের এই প্রতিষ্ঠানটি উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে অত্র অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষার বাতিঘর হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “২০০৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়ে ৭০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে এবং দেবীদ্বার উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। এ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের।”