সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে এডিবি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‎নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ঋণের বড় অংশ নারী ও প্রচলিত ব্যাংকঋণের বাইরে থাকা পরিবারগুলোর আবাসন সুবিধা বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।

‎এডিবির অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর অংশীদার যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নতুন ঘর নির্মাণ, বিদ্যমান ঘরের সম্প্রসারণ এবং মেরামত বা সংস্কারের জন্য জামানতবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। প্রকল্পে দেওয়া ঋণের অন্তত ৮০ শতাংশ নারীদের দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

‎এডিবি বলছে, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি এবং প্রচলিত গৃহঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবার আবাসন অর্থায়নের বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের জন্য জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা এ বাধা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

‎এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, নিরাপদ আবাসন মানুষের মর্যাদা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সহায়তা দারিদ্র্য হ্রাস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

‎প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যেই প্রকল্পটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক ও ভূমিসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসনের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বামী-স্ত্রীর বসবাস ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

‎দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় ঘর নির্মাণের নকশা ও পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপযোগী নির্মাণসামগ্রী ও নকশা ব্যবহারে সহায়তা দেওয়া হবে। নির্মাণের মান যাচাই ও ধাপে ধাপে ঋণ ছাড়ের ব্যবস্থাও থাকবে।