স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর-লুটের ঘটনায় পুলিশের অবহেলা ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‎স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় পুলিশের অবহেলা ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‎এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশের গাড়ি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। পুলিশের গাড়ির সামনে মালামাল ট্রাকে তোলা হয়েছে। এখানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা সবাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ঘটনাটি ২৫ তারিখ রাতে ঘটেছে। মধ্যরাতের পর কিছুসংখ্যক দুষ্কৃতকারী বা দুর্বৃত্ত একটি জায়গা দখল করতে গিয়েছিল। সেখানে একটি ক্লিনিক চালু ছিল। শিশুদের টিকা দেওয়ার যে কর্মসূচি, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল।

‎তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে এই জায়গা দখলের জন্য কারা গিয়েছে, কীভাবে গিয়েছে, সেটা আমাদের নজরে ছিল না। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, এখানে পুলিশের অবহেলা ছিল। আমরা একটি সংক্ষিপ্ত তদন্ত করেছি। তদন্তের পর জানা গেছে, সেই থানার নাম শাহ আলী থানা। এই শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং রুজু করা হবে। এ ব্যাপারে আমি পুলিশ কমিশনারকে স্পট ভিজিটের জন্য পাঠিয়েছি।’

‎স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিএমপির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে বেশ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভাঙচুর করা বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো আলামত হিসেবে এখনো আছে। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। তদন্তের মধ্যে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে গ্রেফতার আছে বেশ কয়েকজন। আমার কাছে ডাটা আছে। আপনারা চাইলে দিতে পারব। এ পর্যন্ত নয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

‎মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দুষ্কৃতকারীরা, দুর্বৃত্তরা যার যে পরিচয় থাকুক, সেটা আমরা আমলে নেব না। যারা গ্রেফতার হয়েছে, তাদেরও রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে। কিন্তু আমরা সেদিকে নজর দেব না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে বলেছি। এটা খুব সিরিয়াস অ্যাকশন নেওয়া হবে। যে-ই জড়িত থাকুক না কেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাইনি। যারা দুর্বৃত্ত, তাদের কারও কারও হয়তো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু সেটা আমরা আমলে নেব না। যে দলের পরিচয়ই হোক, আমরা এখানে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের অপরাধী হিসেবে ট্রিট করব।’

‎এ সময় ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের নতুন সৃজনশীল স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভাঙচুর হয়েছে। আমি এটা ভিডিওতে দেখলাম। এই বিষয়ে তার পক্ষ থেকেও কোনো মামলা করা হয়নি। ফেসবুকে লাইভে এসে যে সমস্ত বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’

‎সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চায়নি। চাইলে নাকি দিতেন। আবার বলছেন যে বিএনপি চাঁদাবাজদের দল। এই ঢালাও অভিযোগের কোনো মানে নেই। যদি তিনি কোনো মামলা করেন, স্পেসিফিক সেটা তদন্ত হবে।’

‎স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিতর্কিত এই জায়গা নিয়ে ডিসপিউটেড ল্যান্ড নিয়ে পক্ষের মধ্যে যে সংঘর্ষটা হয়েছে বা দখল-বেদখলের ঘটনা হয়েছে, এই বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। স্পটে পুলিশ গিয়েছিল। ৯৯৯-এ টেলিফোন পাওয়ার পরে তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। কিছু আলামত উদ্ধার হয়েছে। গুলির খোসা-টোসা পাওয়া গেছে। আর কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এই বিষয়ে যেহেতু বিষয়টা তদন্তাধীন এবং মামলা দায়ের হবে বলে জেনেছি, তখন সে বিষয়ে অগ্রগতি পরে জানানো যাবে।’