তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদক কারবারির বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে গোটা পরিবারকে গ্রামছাড়া করেছে এলাকাবাসী।
ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নোয়াবগঞ্জ (কোটনা) কাজী বাড়ির কাজী মাওলানা আব্দুস সালাম পীর সাহেবের বাড়িতে।
ঘটনার দিন প্রায় সহস্রাধিক এলাকাবাসী এক জোট হয়ে মাদক বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল সহকারে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির পীর সাহেবের দরবার কক্ষসহ প্রায় ৮ টি কক্ষ তছনছ করে দেয়। ঘরে থাকা ৮ টি খাট, চৌকি, ৪টি ফ্রিজ, ২ সেট সোফা, টিভি, রান্নাঘর, মাটির চুলা, বাতরোম, টয়লেট, মোটর সাইকেলসহ বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে দেয়। ঘটনার ২ দিন অতিবাহিত হলেও থানায় কোন মামলা হয়নি। এ বিষয়ে কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও আপলোড করতে সাহস পায়নি।
ঘটনার পর থেকে বাড়ির গৃহকর্তা ফতেহাবাদ পীর সাহেব বাড়ি মাদ্রাসার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব মাওলানা কাজী আব্দুস সালাম পীর (৮২) সাহেব সপরিবারে অন্যত্র পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে ওই গ্রামে যেয়ে দেখা যায় বাড়ির-ঘর ও আসবাবসামগ্রী বিদ্ধস্ত ও ভুতুরে অবস্থায় পড়ে আছে। নিঃশব্দ- ধ্বংসপ্রায় ওই বাড়িতে নেই কোন লোক সমাগম। স্থানীয়রা এ ব্যপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না।
নাম না প্রকাশের শর্তে প্রতিবেশী পঞ্চাশ উর্ধ একাধিক ব্যক্তি জানান, আন্ত:জেলা মাদক কারবারি কাজী এনামুল হক (৩৩) দির্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদ প্রকাশ্যে বিক্রয় করে আসছিলেন। কাজী এনামুল হক একাধিকবার মাদক ব্যবসা ও নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার এবং জেল খাটলেন জামিনে এসে পুরদমে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
গত রমজান মাসে এবং কোরবানি ঈদের সময় গ্রামবাসী দুই দফায় কাজী এনামুল ও তার অপর দুই ভাইকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অনুরোধ জানান। তারপরও আরো দু’দফা গ্রামবাসী ৩ মাস করে ৬ মাস সময় দিলেও তারা মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখেন। গ্রামবাসী তাদের পুর্বাসনে ব্যাবসা, বিদেশগমনে যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেন। তারা শর্ত মেনে একই কাজ করে যাচ্ছিল। গত আগস্ট মাসে মসজিদে মসজিদে সভা ও মাইকিং করে মাদক বিরোধী সচেতনতা বাড়াবার চেষ্টা করেন।
গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তার বাড়ির সামনে থেকে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করেন। আটক মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের মো. রিপন হোসেন(২৮) ও সাগর(২৪) নামে দুই যুবক কাজী এনামুল হকের কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয় করেন এবং বিকাশে টাকা প্রদান করেন বলে জানায়। এ সংবাদে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক জনতা মাদক বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল দিয়ে মাদক কারবারি কাজী এনামুলদের বাড়ি ভাংচুর ও তছনছ করে দেয়। এসময় বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট হয় হলেও তারা জানান।
অপরদিকে না না প্রকাশের শর্তে এক ব্যক্তি জানান, কাজী এনামুল এলাকার একজন প্রভাবশালী মাদক কারবারি। তার দুই ভাইও একই কাজে যুক্ত ছিল। একাধিকবার মাদক আইনে গ্রেফতার ও জেল খেটেছে। গ্রামবাসীর অনুরোধে এবং সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে এনামুল মাদক ব্যাবসা খেকে সড়ে আসলেও এলাকার কিছু যুবক আটক ২ মাদক বযাবসায়ীর মুখ দিয়ে এনামুলের নাম প্রকাশ করে ওই হামলা চালায়। আসলে ওরা সুলতানপুরের এক মাদক ব্যবসায়ি থেকে ওই ইয়াবাগুলো কিনে এনেছিল। তার বাবা এ এলাকার খুবই সম্মানি লোক ছিলেন। তাকেসহ তার পরিবারের লোকদের বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে।
এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এনামুল হক একজন নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা ও একটি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা রয়েছে। ঘরবাড়ি ভাংচুরের বিষয়ে জানান, ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে আমাদের পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে।