ব্রাহ্মণপাড়ার নাগাইশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩ দোকান পুড়ে ছাই

গাজী রুবেল।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল ও ব্যবসায়িক পুঁজি পুড়ে গেছে। এছাড়া আরও দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে গাউছিয়া ভেটেনারি হাউসের মালিক নূরে আলম সিদ্দিকীর প্রায় ১৫ লাখ টাকা, সুলতান খেলার ঘর ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক নাহিদ ইসলাম সুজনের প্রায় ১৪-১৫ লাখ টাকা এবং আগুনের সূত্রপাত হওয়া নোহা ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক এনামুল হকের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাউছিয়া ভেটেনারি হাউসের মালিক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমার ভেটেরিনারি ও গরুর ওষুধের দোকান ছিল। প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। হঠাৎ শুনতে পাই মার্কেটে আগুন লেগেছে। দ্রুত ছুটে আসি। কিন্তু এসে চোখের সামনে দোকান পুড়তে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। আমার দোকান থেকে এক পয়সার ওষুধও বের করতে পারিনি।

সুলতান খেলার ঘর ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক নাহিদ ইসলাম সুজন বলেন, আমি রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাই। সাড়ে ১২টার দিকে মার্কেটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসি। তখন আমার দোকানে আগুন ছিল না। দোকান খুলে বিদ্যুতের লাইনগুলো বন্ধ করি এবং পাশের আরেকটি দোকানের মালামাল বের করার চেষ্টা করি। কিন্তু ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে যায়। তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমি তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারিনি। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও পরিশ্রমে গড়ে তোলা আমার ব্যবসা চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনের সূত্রপাত হওয়া নোহা ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক এনামুল হক বলেন, ডাক-চিৎকার শুনে আমি দোকানে ছুটে আসি। পরে দেখি, আমার দোকানেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। অনেক চেষ্টা করেছি দোকানের তালা খোলার জন্য। কিন্তু আগুনের তাপ এত বেশি ছিল যে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সম্ভব হয়নি। চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি এখন একেবারে নিঃস্ব। আমার পরিবার ও আমার যা সম্বল ছিল, সবই এই আগুনে শেষ হয়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাথমিকভাবে জানান, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যেই দোকানগুলোর ওষুধ, বিভিন্ন পণ্য, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক মালামাল পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করেও দোকান থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারেননি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম। তিনি বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সঞ্চয় ও স্বপ্নে গড়ে তোলা ব্যবসা চোখের সামনে পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তারা সরকারি ও প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।