জমি বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণপাড়ায় কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে ফেলার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের চৌব্বাস পূর্বপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের আবাদ করা শাক-সবজি কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন স্বপন মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে চৌব্বাস পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে মো. স্বপন মিয়া (৬৫) গংয়ের সঙ্গে একই এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম গংয়ের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব সালিশে চৌব্বাস গ্রামের বাবুল হোসেন, দীন ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মিয়া, নুরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসায় সম্মত থাকলেও রফিকুল ইসলাম গং সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। এতে দীর্ঘদিনের বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে স্বপন মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে রফিকুল ইসলাম গংয়ের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ১৩ মে ২০২৬ কুমিল্লার আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তাসলিমা বেগম। মামলার আসামিরা হলেনঃ-রফিকুল ইসলাম (৬৫), পিতা আবদুল হালিম; জাহাঙ্গীর আলম (৩০), পিতা আবদুল হালিম; ইব্রাহিম হোসেন (২০), পিতা রফিকুল ইসলাম এবং খোদেজা বেগম (৪৫), স্বামী রফিকুল ইসলাম। অভিযোগে আরও বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ৫ সেপ্টেম্বর ভোররাতে স্বপন মিয়ার জমিতে আবাদ করা শাক-সবজি কেটে নষ্ট করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও কয়েকজন ভোররাতে ওই জমিতে গিয়ে ফসল কেটে নষ্ট করেন।

স্বপন মিয়ার পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ও ছেলে মো. রুহুল আমিন বিষয়টি দেখতে পান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে রয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার একাধিক চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। কৃষকের আবাদ করা ফসল নষ্ট করার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সালিশে উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, বিরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য তারা একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে রফিকুল ইসলাম গং সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।