কুবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উৎসবের ছুটি ও আবাসনসহ ৩ দফা দাবি

রাহাদুল ইসলাম সুজন, কুবি:

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) একাডেমিক ক্যালেন্ডারে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে ছুটি অন্তর্ভুক্তি, আবাসিক হল গুলোতে রুম বরাদ্দ এবং নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে আদিবাসী কোটা ১ শতাংশ স্থায়ী করার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।

‎সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়।

‎স্মারকলিপিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বিঝু, বিযু, বৈসু, বিহু, সাংগ্রাই, চাংক্রান ও সাংক্রানসহ বিভিন্ন উৎসব প্রতিবছর ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত উদযাপিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও নিজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজস্ব রীতি-নীতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী উৎসব পালন করেন।

‎তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি থাকলেও এসব উৎসবের জন্য আলাদা ছুটি না থাকায় আদিবাসী শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব যথাযথভাবে উদযাপন করতে পারছেন না বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

‎এ ছাড়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজার দিন ছুটি ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।

‎স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অধিকাংশ আদিবাসী শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। তাদের পড়ালেখা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত একটি করে কক্ষ বরাদ্দের প্রয়োজন।

‎এদিকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রমে আদিবাসী কোটায় ১ শতাংশ বা ১১টি আসন রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে সাধারণ আসন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আদিবাসী কোটায় ১ শতাংশ আসন স্থায়ী করার দাবি জানানো হয়।

‎শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজার দিনে ছুটি ঘোষণা; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত একটি কক্ষ বরাদ্দ এবং নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে সাধারণ আসন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আদিবাসী কোটায় ১ শতাংশ আসন স্থায়ী করা।

‎স্মারকলিপিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তারা নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলো যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি আর্থিক ও আবাসিক সংকট কাটিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন,“আমরা স্মারকলিপিটি ক্যালেন্ডার প্রণয়ন কমিটির কাছে পাঠাব। পরবর্তীতে এটি একাডেমিক কাউন্সিলেও উপস্থাপন করা হতে পারে। পূর্বেও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু এবার একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি অন্তর্ভুক্তির দাবি এসেছে, ছুটির বিষয়টি কীভাবে নির্ধারণ করা যায় এবং কোন কোন দিন অন্তর্ভুক্ত রাখা যায়, তা কমিটির মাধ্যমেই বিবেচনা করা হবে।

‎এছাড়া, হলগুলোতে আলাদা রুম বরাদ্দের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে।”