ধর্মমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে তার ছোট ভাইয়ের আবেগঘন ফেসবুক স্টেটাস, দোয়া চাইলেন সবার

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের অসুস্থতা নিয়ে তার ছোট ভাই কাজী শাহ আরেফিন একটি আবেগঘন ফেসবুক স্টেটাস দিয়েছেন। বড় ভাই ধর্মমন্ত্রীর সুস্থতায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। স্টাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো –

একজন ছোট ভাই হিসেবে আমার বড় ভাইয়ের জীবনের এই দীর্ঘ ও কষ্টের পথচলার সাক্ষী আমি খুব কাছ থেকে।

২০১১ সালের শুরুর দিকে ফজরের নামাজ আদায় করতে নিচে নামার সময় তিনি সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে যান। এতে তাঁর ডান পায়ের হিপ জয়েন্টে গুরুতর আঘাত লাগে। দ্রুত তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তখন হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন না করে সেটি রিপেয়ার করার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের আশা ছিল, এতে তাঁর স্বাভাবিক হিপ জয়েন্ট আরও অনেক বছর ভালোভাবে কাজ করবে।

কিন্তু সেই বছরই তাঁর জীবনে আরেকটি বড় প্রতিকূলতা দেখা দেয়। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার কারণে তাঁকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানেই তাঁর সমস্যার শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় তিনি আন্তর্জাতিক ভ্রমণও করতে পারেননি, কারণ তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ফলে সিঙ্গাপুরে এসে নিয়মিত ফলো আপ ও বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মেরামত করা হিপ জয়েন্টের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে, এবং ব্যথা তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।

এত কষ্টের মধ্যেও মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকে তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফিরে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন এবং জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman তাঁকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করেন।

এরপরই শুরু হয় হজ মৌসুম, যা একজন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর জন্য বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। নির্বাচনী প্রচারণা, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং হজের সার্বিক কার্যক্রমে তাঁকে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছে, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে এবং অনেক হাঁটতে হয়েছে। তীব্র ব্যথা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের কষ্টের চেয়ে দায়িত্বকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু একসময় সেই ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে।

এরপর তিনি আবার সিঙ্গাপুরে আসেন পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য। সব রিপোর্ট ও স্ক্যান পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর হিপ জয়েন্টের কার্টিলেজ সম্পূর্ণ ক্ষয় হয়ে গেছে এবং দুই হাড়ের মাঝের জয়েন্ট স্পেস শূন্যে নেমে এসেছে। তাদের ভাষায়, ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট।

এই দীর্ঘ সময়ের কষ্টের মধ্যেও হিপ জয়েন্টের সমস্যাটি ছাড়া শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং এখনো আছেন।

আজ সিঙ্গাপুর সময় দুপুর প্রায় ২টায়, Singapore General Hospital এ তাঁর টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার অনুষ্ঠিত হবে।

একজন ছোট ভাই হিসেবে আমি সবার কাছে আন্তরিকভাবে একটি অনুরোধ করছি। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু অসুস্থতার সময় মানবিকতার কোনো দল মত থাকে না। তাই দল, মত ও অবস্থান নির্বিশেষে সবাই আমার বড় ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।

আল্লাহ তাআলা যেন সার্জন ও পুরো চিকিৎসক দলের হাতকে উত্তমভাবে পরিচালিত করেন, অপারেশনটি সহজ, সফল ও ঝুঁকিমুক্ত করেন, তাঁকে দ্রুত পূর্ণ শিফা দান করেন এবং আবার সুস্থ হয়ে পরিবার, প্রিয়জন ও দেশের মানুষের সেবায় ফিরে আসার তাওফিক দান করেন।

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

হে আল্লাহ, আপনি মানুষের প্রতিপালক। আপনি কষ্ট দূর করুন। আপনিই আরোগ্যদানকারী। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন পূর্ণ আরোগ্য দান করুন, যার পর আর কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।

আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে শিফায়ে কামিলা ও আজিলা নসিব করুন। আপনাদের সকলের দোয়া কবুল করুন। আমীন।