কুবিতে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিনিয়রকে মারধর, বিচার পায়নি দেড় মাসেও

কুবি প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে দেয়ালে ‘JCD’ লেখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে জুনিয়রদের নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার মীমাংসায় একই রাতে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দেড় মাস পার হলেও এখনো বিচার পায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

‎গত ২১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের ৫০৮ নম্বর কক্ষে ও বারান্দায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তার অভিযোগ, একই ব্যাচের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরী ও আইন বিভাগের ফয়সালের সঙ্গে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক সাকের ও ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শনব দেবনাথ ও মারুফ হোসাইনও এতে অংশ নেন।

‎পরে রাত ১২টার দিকে ঘটনার মীমাংসায় হল প্রভোস্ট, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বৈঠক চলাকালে আবারও মারামারি হয়। এ ঘটনায় অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তবে ছাত্রদল কর্মী ইংরেজি বিভাগের শনব দেবনাথ ও মারুফ হোসাইন এবং মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎ঘটনার পর ২২ আগস্ট চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হল প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় হলের হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে। সদস্যসচিব ছিলেন সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন। সদস্য ছিলেন হাউজ টিউটর খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ ও জহিরুল ইসলাম বাবর। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

‎তদন্ত কমিটির সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে হল প্রভোস্টের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে প্রতিবেদনটি হল থেকে প্রশাসন বা প্রক্টর অফিসে পাঠাতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে। ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বরের দিকে বিষয়টি শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

‎তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার চারটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হলের দেয়ালে লেখাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত ও জড়িতদের পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে কথাকাটাকাটি, মামুনুর রশীদকে তার কক্ষে মারধর এবং পরে নিচে সংঘর্ষের ঘটনা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বহিষ্কার ও কক্ষ থেকে জিনিসপত্র ফেলে দেওয়ার বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎তদন্ত কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম বাবর বলেন, “২ সেপ্টেম্বর আমরা হলে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। হল থেকে প্রশাসন বা প্রক্টর অফিসে পাঠাতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে রিপোর্টটি প্রক্টর অফিসে রয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।”

‎আরেক সদস্য খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করে হল প্রভোস্টের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

‎এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ বলেন, “হল প্রভোস্টের বিচার নিয়ে অনাগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। গত দুই সপ্তাহে তিনবার বিচার প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছি। তিনি বলেছেন, অভিযোগ শৃঙ্খলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে কোনো কথা বলেননি।”

‎তিনি আরও বলেন, “ঘটনার স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ আছে। সব প্রমাণ থাকার পরও প্রশাসন যদি বিচারের ব্যাপারে গড়িমসি করে, তাহলে আমার কিছু করার নেই। আমি এখনো আশাবাদী, প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যায্য বিচার পাব।”

‎এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, “তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আমরা একটি মিটিং করেছিলাম, কীভাবে আগানো যায়। সবার সম্মতিক্রমে শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রক্টরের মাধ্যমে শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক উপাচার্যের কাছে কয়েকদিন আগে পাঠানো হয়েছে।”

‎এ বিষয়ে শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “আমার কাছে যে রিপোর্টটি এসেছে, সেখানে ২২ সেপ্টেম্বর লেখা থাকলেও আমি পেয়েছি গতকাল। তদন্ত প্রতিবেদন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হবে। তখন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”