ব্রাহ্মণপাড়ায় শিক্ষকের গাফিলতির কারণে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না সিয়াম

গাজী রুবেল।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল এন্ড কলেজ–এর কারিগরি শাখায় এক এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা নেওয়ার পরও ফরম জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে ফরম পূরণ না হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবারে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিয়াম মুন্সি ২০২৫ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে “জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস” বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়। পরে চলতি বছরের পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় ফরম পূরণের জন্য বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার তৎকালীন ইনচার্জ মো. জামাল উদ্দিন বিএসসির কাছে ২ হাজার টাকা জমা দেন বলে জানান সিয়ামের পরিবার। যদিও বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর পরীক্ষা শুরু হলে সিয়াম এডমিট কার্ড সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জমির হোসেনের কাছে গেলে তাকে জানানো হয়, তার এডমিট কার্ড আসেনি এবং তার ফরম পূরণও সম্পন্ন হয়নি।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা মিতা আক্তার বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্কুল যেভাবে বলেছে, সেভাবেই সব কাগজপত্র ও টাকা দিয়েছি। ফরম পূরণের জন্য যত টাকা চেয়েছে, তাও দিয়েছি। তারপরও স্যারের গাফিলতির কারণে আমার ছেলের একটি বছর নষ্ট করে দিল। এ বছর পরীক্ষা দিতে না পারলে ওর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই, যেন আমার ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এসএসসি ভোকেশনাল শাখার ইনচার্জ জমির হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা আগের কারিগরি শাখার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন সাহেবের কাছে দিয়েছে। তিনি কেন এতে গাফিলতি করেছেন, তা আমি জানি না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ডে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু ফরম পূরণ করাতে পারিনি। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ফরম পূরণ বাবদ এক হাজার টাকা, ভর্তি বাবদ এক হাজার টাকা এবং টেস্ট পরীক্ষায় না বসায় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আংশিক পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভর্তি ফি বা টেস্ট পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার কোনো বিধান নেই। শুধু নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শাখার ফরম পূরণের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “সিয়াম আমার কাছে টাকা দিয়েছে। তখন ভুলক্রমে বিষয়টি মিস হয়ে গেছে। রেকর্ডে সিয়ামের ফরম পূরণের কোনো তথ্য নেই। পরীক্ষার আগে সিয়াম ও তার মা এসে জানালে আমি ফরম পূরণের চেষ্টা করি, কিন্তু সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।” আপনার অবহেলায় একজন শিক্ষার্থীর এমন ক্ষতির দায় কার?”—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দায় তো আমারই। আমি তো চেষ্টা করেছি, পারিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল করিম বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ না হওয়া অপূরণীয় ক্ষতি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি স্পষ্ট। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জানলাম। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে দেখি শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না। আর শিক্ষকের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও। রুটিন অনুযায়ী আগামী ১২ মে (মঙ্গলবার) সিয়ামের “জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস” বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হাতে রয়েছে মাত্র এক দিন। এই সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় ফরম পূরণ করা না গেলে প্রশাসনিক গাফিলতিতে থমকে যেতে পারে সিয়ামের শিক্ষাজীবন। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।