বারুর আলী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

দেবিদ্বার প্রতিনিধি।।
শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লার দেবিদ্বারের বারুর আলী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন সরকার এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বারুর গ্রামের দুই কৃতি সন্তান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. নাজমুল হাসান সোহাগ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (সার্জারি) ডা. মো. শাহাদাত হোসাইন সরকার। এছাড়া চিকিৎসাসেবা দেন ময়নামতি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা.সোহাগ মজুমদার এবং ডা. সাথী (এমবিবিএস, সিএমইউ)।

চিকিৎসকরা অংশগ্রহণকারীদের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মেডিকেল ক্যাম্পের পাশাপাশি কুমিল্লা মহানগর ব্লাড ডোনার্স, দেবিদ্বার শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি নিরাপদ রক্তদান, স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব এবং জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতার তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন সরকার বলেন, একজন সুস্থ শিক্ষার্থীই আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মেডিকেল ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ায় অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা এবং নিরাপদ রক্তদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।